বিশ্ববাজারে রুপার দাম শুক্রবার প্রায় ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে জানান, এ সময় লন্ডনের বাজারে রুপা সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত ক্রয় বাড়ান। ফলে দাম আরো বেড়ে যায়। এমন বাজার পরিস্থিতিকে শর্ট স্কুইজ বলা হয়। এর প্রভাবে সাপ্তাহিক লেনদের শেষদিনে যুক্তরাষ্ট্রেও রুপার চাহিদা ও দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। খবর মাইনিং ডট কম ও দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
স্পট মার্কেটে শুক্রবার রুপার দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৮ ডলার ৩৪ সেন্টে পৌঁছায়, যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৯ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রুপার দামের এত বড় ব্যবধান সচরাচর দেখা যায় না। সাধারণত দ্রুত আরবিট্রেজের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবধান দূর হয়। তবে বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবান ধাতুর ওপর শুল্ক আরোপের আশঙ্কার সময়ও দামে এমন অসাঞ্জস্য দেখা দিয়েছিল। পরে হোয়াইট হাউজ বুলিয়নে শুল্ক আরোপ থেকে অব্যাহতি দিলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
তবে এ আরবিট্রেজের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক ব্যবসায়ী রুপার লিজ রেট বাড়িয়ে নেন। লন্ডনে গত শুক্রবার এক মাস মেয়াদি বার্ষিক লিজ রেট প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা সাধারণত শূন্যের কাছাকাছি থাকে।
তবে লন্ডনে অধিকাংশ রুপা এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) সংরক্ষিত থাকে। ফলে তা কেনা বা ধার দেয়া সহজ হয় না। বৃহস্পতিবার ইটিএফে রুপার মজুদ একদিনেই ১১ লাখ আউন্স বেড়েছে।
চলতি বছর রুপার দাম এরই মধ্যে ২৭ শতাংশ বেড়েছে, যা স্বর্ণের তুলনায় বেশি। মূল্য সংরক্ষণ ও শিল্প খাতে ব্যবহার এ দুই মিশ্র খাতে ধাতুটির ব্যবহার উপযোগিতা মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সোলার প্যানেলসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তিতে রুপার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ সিলভার ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরও রুপার বাজার ঘাটতিতে থাকবে। ফলে সামনের দিনগুলোয় চাহিদা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।